দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার পথে হাঁটায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পর দুই নেতার লক্ষ্য ও কৌশলগত অবস্থানের ফারাক আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই সমঝোতা ইসরায়েলের জন্য উদ্বেগের কারণ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সমঝোতা ইসরায়েলের জন্য ভয়াবহ। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান পর্যন্ত নেতৃত্বের কেউই এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না।’
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা অবস্থায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হবে। সেই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগ, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, আলোচনার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে, যা ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ সীমিত করবে, অথচ তাদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো অমীমাংসিতই থেকে যাবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে ঘিরে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধ দেখা গেছে। মাসের শুরুতে বৈরুত লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে এক টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়। সেদিন হামলা স্থগিত করা হলেও এক সপ্তাহ পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরায়েল, যার জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রাথমিক সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া রকেটের জবাবে ওই হামলা চালানো হয়।
সোমবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু স্বীকার করেন, তার সঙ্গে ট্রাম্পের সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। অনেক বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক হয়, আবার কিছু বিষয়ে হয় না। আমি ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বে আছি।’
তিনি আরও জানান, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান বজায় রাখবে এবং হিজবুল্লাহর হামলার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা ধরে রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, এতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডায় নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, ৬০ দিনের এই সময়সীমা ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৃহত্তর চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক উপস্থিতিও বজায় রাখবে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ইরানের সঙ্গে সমঝোতা কাছাকাছি বলে মন্তব্য করলে ইসরায়েল বিস্মিত হয়েছিল বলেও কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তারা স্বীকার করেন, আলোচনায় প্রভাব বিস্তারে ইসরায়েলের সাফল্য খুবই সীমিত ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা নেতানিয়াহুর জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইসরায়েলি জনগণের কাছে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু বর্তমান সমঝোতা সেই অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
একজন বিশ্লেষক বলেন, ‘নেতানিয়াহু এই সমঝোতাকে ইসরায়েলি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবেন না। তার সবচেয়ে বড় আশা হতে পারে, আলোচনা ব্যর্থ হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ আবার শুরু হবে।’
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইহুদি ইসরায়েলিদের মাত্র ৪১ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্প তাদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেন। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ।
এদিকে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেন, ‘ইরান যদি আবার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালুর চেষ্টা করে, আমরা সেখানে থাকব এবং ব্যবস্থা নেব।’
/অ